চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষ্য দিতে নির্ধারিত সময়ে হাজির না হওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সাবেক ও বর্তমান প্রায় ৭০০ সদস্যের বিরুদ্ধে সাক্ষীর সমন জারি করেছেন আদালত।
সিএমপির উপ-কমিশনার (সদর) দপ্তর থেকে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে পাঠানো ১৮টি পৃথক চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। চিঠিগুলোতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দিনে সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি অক্টোবর ও আগামী নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে এসব মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। সাক্ষীদের নির্ধারিত তারিখে সকাল ৯টার মধ্যে আদালতে হাজির করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে সাক্ষীরা উপস্থিত না হলে এবং এর ফলে রাষ্ট্রপক্ষের মামলার কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট সাক্ষী ও কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হতে পারে বলেও চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে পুলিশ সদস্যদের একটি অংশের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষীদের কাছে সময়মতো সমন পৌঁছায় না। বিভিন্ন ইউনিটের রিজার্ভ অফিসের সমন শাখার কার্যক্রমে সমন্বয় ও তদারকির ঘাটতির কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।
সিএমপির উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, বর্তমানে সিএমপিতে কর্মরত প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ সদস্যসহ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত সিএমপির সাবেক প্রায় ৭০০ সদস্য সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছে। তাদের অনেকেই এরই মধ্যে অবসরে গেছেন।
তিনি বলেন, কিছু পুলিশ সদস্যকে আদালতে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত তারিখের মাত্র একদিন আগে। ফলে দূরবর্তী কর্মস্থল থেকে স্বল্প সময়ে আদালতে উপস্থিত হওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ভিআইপি নিরাপত্তা, বিশেষ আইনশৃঙ্খলা দায়িত্ব ও জরুরি অভিযানে নিয়োজিত থাকার কারণেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হওয়া সম্ভব হয় না বলে জানান তিনি।
তার মতে, বিষয়টিকে শুধু আদালতের নির্দেশনা অমান্য বা সাক্ষ্য দিতে অনীহা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কর্মস্থল, সরকারি দায়িত্ব, অবসর গ্রহণ এবং নোটিশ পাওয়ার সময়—এসব বাস্তব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুলিশ সদস্যদের যথাসময়ে সাক্ষ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাক্ষীদের কাছে সময়মতো নোটিশ পৌঁছানো এবং তাদের সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে আদালতের সময়সূচির সমন্বয় করা গেলে সাক্ষীর অনুপস্থিতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ইতি/
