বন্দরের পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং সামুদ্রিক খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জ্যোরিস ভ্যান বোমেলের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবনে পৌঁছালে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। পরে বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তাঁরা।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান আধুনিকায়ন কার্যক্রম, ডিজিটাল সেবা, পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, অনলাইন বিলিং ও পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং টার্মিনাল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পেপারলেস পোর্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে সেবা সহজীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে ডাচ প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়।
বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত জ্যোরিস ভ্যান বোমেল। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় মেরিটাইম অ্যান্ড অফশোর এনএলের ট্রেড প্রমোশন ম্যানেজার পিটার ওডস কুইপার্স ‘ডাচ মেরিটাইম এক্সপার্টাইজ অ্যান্ড সলিউশনস’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন। এতে ডাচ সামুদ্রিক খাতের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, ড্রেজিং, লজিস্টিকস, টার্মিনাল পরিচালনা এবং পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন পোর্ট’ উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। পরে তাঁরা বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও পরিচালন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য, প্রকল্প পরিচালক, বিভাগীয় প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এ সফর।
ইতি/
