নারীদের জন্য চালু হওয়া বিআরটিসির ‘পিংক বাস’ সেবা ঘিরে একদিকে নারী, যাত্রীদের স্বস্তি, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী চালকদের নিয়ে বিদ্রূপ ও নেতিবাচক মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব সমালোচনায় পিছিয়ে যেতে নারাজ বাসের নারী চালকেরা।
সম্প্রতি ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামে নারী চালক ও কনডাক্টর পরিচালিত নারীদের জন্য নির্ধারিত রুটে বাস চলাচল শুরু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। ঢাকায় চালু হওয়া বাসগুলোর মধ্যে গোলাপি রঙের বাসগুলোকে ‘পিংক বাস’ নামে পরিচিত করা হচ্ছে।
নতুন সেবা চালুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন নারী চালককে নিয়ে ট্রল ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চালক খাদিজা আক্তার। একসময় গৃহিণী থাকা খাদিজা ২০২১ সালে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। পরে প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি বিআরটিসির নারী চালকদের জন্য চালু করা বাস সেবায় দায়িত্ব পালন করছেন।
খাদিজার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও হয়রানি করা হচ্ছে। এতে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা হতাশ হলেও কাজ থেকে সরে যাওয়ার কথা ভাবছেন না।
নারী চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি তাঁদের অনেকেরই ধারণায় ছিল। তবে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করাকেই তাঁরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিআরটিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নারী বাস চালকের সংখ্যা ১৫ জন এবং নারী কনডাক্টর রয়েছেন ২৪ জন। নতুন সেবায় নারীদের চালিত বাসে আপাতত পুরুষ প্রশিক্ষক রাখা হয়েছে। চালকদের দক্ষতা ও নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষকরা তাঁদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজধানীতে চালু হওয়া সেবায় বর্তমানে সীমিত সংখ্যক বাস চলাচল করছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ও বিকেলে ট্রিপ পরিচালনার পর অন্য সময় বাসগুলো ডিপোতে রাখা হচ্ছে।
নারীদের জন্য পৃথক বাস সেবা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক নারী যাত্রী। তাঁদের মতে, গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে পৃথক বাস চালুর পাশাপাশি পুরো গণপরিবহনব্যবস্থাকে নারীবান্ধব ও নিরাপদ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন অনেকে। তাঁদের আশঙ্কা, বাসের সংখ্যা কম হলে নির্দিষ্ট রুটে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। এতে সময়ের সঙ্গে সেবাটির প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, নারী চালকদের বাস চালানোর সক্ষমতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের মন্তব্য ও বিদ্রূপ ছড়াচ্ছে, সেটিকে নারীবিদ্বেষী আচরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে একজন নারীও পেশাদার চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।
বিআরটিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নারী চালকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া এবং নতুন সেবা পরিচালনা নিয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বাস ও প্রশিক্ষিত চালক যুক্ত হলে সেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
নারী চালকদের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রল বা নেতিবাচক মন্তব্য তাঁদের কর্মজীবনের পথে বাধা হতে পারে না। নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে বাস চালিয়ে যাত্রীসেবা দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
ইতি/
