, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 87%

চট্টগ্রামে পুলিশের জনবল সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও অপরাধের পরিধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনবল। প্রায় ৮০ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৬ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য। ফলে গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ নাগরিকের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন একজন পুলিশ সদস্য।

জনবল সংকটের পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ব ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এতে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, থানার নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, ভিআইপি প্রটোকল, রাজনৈতিক কর্মসূচি, টহল, আসামি গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন জরুরি দায়িত্ব সীমিত জনবল দিয়েই সামলাতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন সদস্যকে একই সময়ে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় দায়িত্বের চাপ কমছে না। ঈদ, পূজা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের সময়ও অনেক সদস্যকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে নিয়মিত বিশ্রাম ও ছুটি ব্যাহত হচ্ছে।

সিএমপির ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর ছয়টি থানা ও ৩ হাজার ৬২২ জন জনবল নিয়ে সংস্থাটির যাত্রা শুরু হয়। ওই সময় চট্টগ্রাম নগরীর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ। প্রায় পাঁচ দশকে নগরীর জনসংখ্যা কয়েক গুণ বাড়লেও পুলিশের জনবল সেই অনুপাতে বাড়েনি।

সিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে প্রতি ২৭৬ নাগরিকের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। ১৯৯০ সালে এ অনুপাত দাঁড়ায় ৪৬৫ জনে একজন এবং ২০১৭ সালে ৮৪৬ জনে একজন। বর্তমানে অনুপাতটি প্রায় ১ হাজার ২০০ নাগরিকের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্যে দাঁড়িয়েছে।

জনবল সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে থানাগুলোতে। একটি থানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য না থাকলে তদন্ত, টহল, আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে হাজিরা, মামলা সংক্রান্ত কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো একাধিক দায়িত্ব একই সদস্যদের ওপর পড়ছে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপির একটি থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা বলেন, বদলির কারণে কয়েকটি পদ খালি হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেখানে নতুন সদস্য পদায়ন করা হয়নি। ফলে বিদ্যমান সদস্যদেরই বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

একই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, জনবল সংকটের কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া দায়িত্ব পালন করলে পুলিশ সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সতর্কতা ও শারীরিক সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে রাতের টহল, অস্ত্র বহন, আসামি গ্রেপ্তার কিংবা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ক্লান্তি সদস্যদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ ও প্রশাসন) ওয়াহিদুল হক বলেন, নতুন করে যখন-তখন জনবল নিয়োগ বা পদায়নের সুযোগ নেই। অনুমোদিত জনবল কাঠামো নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে। বর্তমানে সিএমপিতে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জনবল রয়েছে এবং থানাগুলোও জনবল সংকটের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত নতুন থানা ও পুলিশ লাইন স্থাপনের বিষয়েও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

নগরীর জনসংখ্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুলিশ সদস্য সংখ্যা বাড়ানো, খালি পদে দ্রুত পদায়ন এবং সদস্যদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা গেলে একদিকে নাগরিক সেবা বাড়বে, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত