, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 72%

এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার চাপের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন মিনহাজুল ইসলাম রোজান নামের এক পরীক্ষার্থী। পরিবারের দাবি, ছেলের ডায়াবেটিস থাকার বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। অসুস্থ হওয়ার পর একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হলেও শুরুতে ডায়াবেটিসসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

মিনহাজুল ঢাকার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিলেন। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও অসুস্থতার কারণে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে পারেননি। ২৩ আগস্ট রাজধানীর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট মিনহাজুল দুর্বলতা ও অসুস্থতার কথা জানান। দীর্ঘদিন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে রাত জাগার কারণে এমনটা হয়েছে বলে প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, কয়েক জায়গায় তাঁর অসুস্থতাকে পরীক্ষার মানসিক চাপ বা প্যানিক অ্যাটাক হিসেবে বিবেচনা করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং ডায়াবেটিসের পরীক্ষা করা হয়নি

১২ আগস্ট অসুস্থ অবস্থায় মিনহাজুলকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন তাঁর অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পরিবার জানায়, ১৩ আগস্ট তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যায়। তখনই চিকিৎসকদের কাছ থেকে তারা প্রথম জানতে পারেন যে মিনহাজুলের ডায়াবেটিস ছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে অস্ত্রোপচারও করা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, অল্প বয়সীদের মধ্যেও ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে এবং সব রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত লক্ষণ স্পষ্ট নাও হতে পারে। ডায়াবেটিসের পাশাপাশি ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস (DKA) হলে দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি, পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঝিমুনি বা আচরণে অস্বাভাবিকতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা জরুরি।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কিশোর ও তরুণদের মধ্যেও ডায়াবেটিস শনাক্ত হচ্ছে এবং নতুন শনাক্ত রোগীদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে আগে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ ছিল না।

মিনহাজুলের পরিবার মনে করছে, অসুস্থ হওয়ার শুরুতেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। চিকিৎসার পেছনে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁর বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ।

মিনহাজুল পড়াশোনায় ভালো ছিলেন এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। কলেজের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য, ভবিষ্যতে সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত