, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 85%

বিদেশে চাকরির প্রলোভনে নতুন ফাঁদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 ডেটা এন্ট্রির চাকরির আশায় কম্বোডিয়ায় গিয়ে বিপাকে পড়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের এক যুবক। মো. শফিকুল ইসলামের দাবি, দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাঁকে একটি কথিত অনলাইন প্রতারণাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।

শফিকুলের বর্ণনা অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় যাওয়ার আগে ঢাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে বিদেশে চাকরির জন্য তাঁর প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি হয়। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষে তিনি গত বছরের অক্টোবরে কম্বোডিয়ায় যান।

দেশটিতে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ তাঁর। তাঁর পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে একটি সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইন ও ফোনভিত্তিক প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলে দাবি করেন তিনি।

শফিকুল জানান, সেখানে ফোনে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ বা ব্যাংক কর্মকর্তার পরিচয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল শেখানো হতো। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে অর্থ আদায়ের কাজও চলত বলে তাঁর দাবি।

কাজে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন শফিকুল। তাঁর দাবি, তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আটকে রাখা হয় এবং মারধরের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। প্রায় ১৭ দিন পর তাঁকে সেখান থেকে বের করে একটি নির্জন এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে কম্বোডিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের সহায়তায় তিনি রাজধানী নমপেনে পৌঁছান। শফিকুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার পরিশোধের পর তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। এরপর দেশে ফিরে আসেন তিনি।

দেশে ফেরার পর চাকরির জন্য যোগাযোগ করা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি শফিকুলের। বর্তমানে তিনি প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

শফিকুলের কাছে থাকা কিছু ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য দেখা হয়েছে। তবে কম্বোডিয়ায় তাঁকে আটকে রাখা, নির্যাতন এবং বিক্রির চেষ্টার অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা ও মানবপাচারের ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা, ভিসা, চুক্তিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বৈধতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত