চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ী ও তার বন্ধুকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের (এলআইসি) সহকারী কমিশনার শরিফুল আলম সুজনকে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ইউনিটের এএসআই বাছির উদ্দিন এবং সিএমপির রেশন স্টোরের এএসআই আবু সুফিয়ানকে ক্লোজড করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, অভিযোগের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিলের অভিযোগ, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে হালিশহরের কে ব্লকের একটি বাসা থেকে তাকে ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে সাদা পোশাকে থাকা একদল পুলিশ তুলে নেয়। তাদের একটি গাড়িসহ এলআইসি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য একটি ডিভাইসে স্থানান্তর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
শাকিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করে দেওয়ার এবং তাদের জুয়া সংক্রান্ত মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক দফায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার স্থানান্তর করা হয়, যার বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ওই রাতেই তাকে নগরের একটি ব্যাংকের বুথে নিয়ে পাঁচ দফায় আরও ৪ লাখ টাকা উত্তোলনে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এলআইসি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় একটি মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাব থেকেও ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে ব্যক্তিগত তথ্য লিখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি ফেরত দেওয়ার সময় আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। নগর পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতি/
