পবিত্র মক্কা নগরী অভিমুখে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা একটি ড্রোন পাঠিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। দেশটির দাবি, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটি শনাক্ত করে এবং সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ভূপাতিত করা হয়। তবে মক্কা কোনো পবিত্র স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোনটির গতিবিধি শনাক্ত করে। পরে সেটিকে প্রতিহত করা হয়।
আল-মালিকির ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা। তিনি মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিসহ মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
এ ঘটনার পর মক্কা নগরীতে সাময়িকভাবে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। একই ধরনের সতর্কতা তাইফ ও জেদ্দা শহরেও দেওয়া হয়েছিল। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
হুতিদের পক্ষ থেকে সৌদি অভিযোগকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে অস্বীকার করা হয়েছে। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুতিদের একটি সামরিক সূত্র জানায়, মক্কা কিংবা অন্য কোনো পবিত্র স্থানের প্রতি ইয়েমেন থেকে হামলার হুমকি রয়েছে—এমন দাবি তারা প্রত্যাখ্যান করে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর বিপরীতে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করছে বলে সৌদি জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সোমবার খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরে হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত এবং কয়েকটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছে জোটটি।
ইয়েমেনে হুতি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে সংঘাত শুরু হয় ২০১৫ সালে। রাজধানী সানা দখলের পর সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব সামরিকভাবে এতে যুক্ত হয়।
সম্প্রতি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সামরিক অগ্রগতিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা ও বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইতি/
