, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 63%

চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে বাড়তি দামে নিত্যপণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরের কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা কাটেনি। একদিকে কয়েক ধরনের সবজির দাম বেড়েছে, অন্যদিকে মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগি ও ডিমও বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক বেশি দামে। ফলে বাজার করতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার, বহদ্দারহাট ও চকবাজারের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচা মরিচ, বরবটি, বেগুন, শিম ও শসার দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ৪০ টাকা।

বরবটি ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা, বেগুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং শসা ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শিমের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে; কিছুদিন আগে যা ১৮০-২০০ টাকার মধ্যে ছিল।

তবে গাজরের দাম আগের মতোই ৮০ টাকা কেজি রয়েছে। ঝিঙে ও করলাও ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পটলের দামেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের এক সবজি বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন সবজির দাম একই থাকে না। আড়তে সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং ক্রয়মূল্যের ওপর নির্ভর করে খুচরা বাজারে দাম ওঠানামা করে।

বহদ্দারহাটে বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, কয়েক ধরনের সবজি একসঙ্গে কিনলেই মোট খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারের বর্তমান দামে স্বস্তি পাওয়া কঠিন হচ্ছে।

মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই

সবজির তুলনায় মাছের বাজারে শুক্রবার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া মান ও আকারভেদে চিংড়ি ৮০০-৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪৫০ টাকা, বড় রুই ৪৫০-৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

বিক্রেতাদের ভাষ্য, আড়তে মাছের ক্রয়মূল্য ও পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে দাম কমানোর সুযোগ কম।

চড়া দামে ডিম ও ব্রয়লার

সবজি ও মাছের পাশাপাশি ডিম-মুরগির বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকা এবং ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চকবাজারের ডিম বিক্রেতাদের দাবি, কয়েকদিন ধরে ডিমের দাম প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে না কমায় খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমসহ বিভিন্ন কারণে কিছু খামারে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় বাজারদরও কমছে না।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ায় এবং অন্যগুলোর দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকায় নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত