, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 64%

অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কিশোর আটক, সিসিটিভিতে মিলেছে সূত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা এলাকায় লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন স্থান থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কোটবাড়ী এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করা হয়।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কোটবাড়ী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতীমকে এক কিশোরের সঙ্গে দেখা যায়। ওই কিশোরের বয়স অপ্রতীমের চেয়ে বেশি এবং তার মাথায় ক্যাপ ছিল বলে জানা গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম জানান, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পাওয়ার পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম নিখোঁজ হয়। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি।

শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ জানায়, মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি এখনো উদ্ধার হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে। তবে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি নয় পুলিশ।

অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত