, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 64%

জাতিসংঘে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন।

এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি

নিউইয়র্কে পৌঁছে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এদিন জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশ, অধিবেশনের উদ্বোধনী আয়োজন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলাবিষয়ক সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Climate Action and the Just Transition’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন তিনি।

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।

একই দিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে গুরুত্ব

সফরকালে বাংলাদেশের উদ্যোগে দুটি পার্শ্ব-আয়োজনেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি।

পরদিন মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী।

এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।

বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাত, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলে ধরার কথা রয়েছে।

নিউইয়র্কে কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এবারের সফরে তাঁর সঙ্গে তুলনামূলক ছোট একটি প্রতিনিধিদল থাকছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত