, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 64%

চট্টগ্রাম বন্দরে অটোমেশন জোরদার

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে সেবার মানোন্নয়ন, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ভ্যাসেল বিলের শতভাগ অনলাইন কার্যক্রম চালু হয়েছে। পাশাপাশি কনটেইনার ও কনসাইনি বিল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে প্রস্তুত ও আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, বন্দরের নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপন এবং এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ছুটির দিন ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরেও যেকোনো সময় অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হবে।

বন্দর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ই-গেট পাস ইস্যু এবং গেটের প্রবেশ ও বহির্গমন কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টিওএসের আওতায় টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট, লাইন কার্ট টিকিট, ই-গেট চালান এবং শতভাগ ভ্যাসেল ই-এনওসি নিশ্চিত করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

এ ছাড়া বন্দরের মাশুল পরিশোধে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা অতিক্রম করলে স্বয়ংক্রিয় পুল পেমেন্ট ব্যবস্থা, টিওএসের মাধ্যমে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্টের অনলাইন অনুমোদন এবং এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআই সংযোগের মাধ্যমে অকশন ডেলিভারি কার্যক্রম অনলাইনে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্রেক বাল্ক অপারেশনও দ্রুত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্দর সচিব আরও জানান, টিওএসের নতুন সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআরকে ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বন্দরের অভ্যন্তরে যানজট কমানোর পাশাপাশি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে তাৎক্ষণিকভাবে নথি যাচাই, বিল তৈরি ও নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

একই সঙ্গে আইসিডি ইন্টিগ্রেশন এবং বে টার্মিনালে স্লটভিত্তিক ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্টনির্ভর ট্রাক পার্কিং টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের সম্মেলনকক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বন্দরকে সম্পূর্ণ পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের ফলে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়, বকেয়া আদায় ত্বরান্বিত করা এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতা কামনা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত