জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও বিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মো। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হলে জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, রাশিয়ার সহযোগিতায় মিয়ানমারে একটি এলএনজি হাব নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশটিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ এবং সহযোগিতা বাড়ানো গেলে টেকসই উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে চাল, আদা, রাবার ও মাছসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্য, তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য মিয়ানমারে রপ্তানি করা যেতে পারে। এ সময় তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে ইয়াঙ্গুনের সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি উপকূলীয় নৌপরিবহন, সড়ক যোগাযোগ ও সরাসরি বিমান চলাচল চালু করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা সম্ভব। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইয়াঙ্গুনসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সক্ষমতা ও তুলনামূলক সুবিধা কাজে লাগিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে মিয়ানমারের কৃষি ও মৎস্য খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে উভয় দেশ উপকৃত হতে পারে।
সভায় বক্তারা পারস্পরিক আস্থা, উন্মুক্ত যোগাযোগ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, নৌপ্রটোকল স্বাক্ষর এবং অর্থ লেনদেনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।
মতবিনিময় সভায় চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি এমএ ছালাম, সাবেক পরিচালক এসএম আবু তৈয়ব, মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সেলর হতেত মিয়াত লুইন, মিয়ানমারের অনারারি কনসাল জেনারেল এএইচএম হাকিম আলী, চেম্বার পরিচালক আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, নটিকার চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শফিক ভূঁইয়া, প্যান মেরিন লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসলাম, মাইনার মেরিন সার্ভিসেসের মোহাম্মদ রেজাউল করিম, উইম্যান চেম্বারের ইয়ং এন্ট্রাপ্রেনরস অ্যান্ড ইয়ুথ লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারপারসন ফারাহ সুলতানা শহীদ এবং চৌধুরী গ্রুপের ডিএমডি শাহেদ সরোয়ার বক্তব্য দেন।
এ সময় চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, মো. সেলিম নুর, সাবেক পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর) এবং উইম্যান চেম্বারের সাবেক পরিচালক শামীলা রীমা উপস্থিত ছিলেন।
ইতি/
