, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 76%

হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সালের ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এসব হিসাবে থাকা ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ আদেশ দেন। সিআইডির উপপরিদর্শক আবদুল লতিফ হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে সিআইডি জানায়, ফয়সাল ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেনের প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং সম্ভাব্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিআইডি জানায়, ফয়সাল ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই অর্থের উৎস ও লেনদেনের ধরন খতিয়ে দেখতে অর্থপাচারসংক্রান্ত অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি।

তদন্তের অংশ হিসেবে ফয়সালের আর্থিক কর্মকাণ্ড, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন এবং অর্থের সম্ভাব্য উৎস ও গতিপথ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অর্থ অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত কি না, কিংবা স্থানান্তর ও গোপনের মাধ্যমে বৈধ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।

তবে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশকে অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তদন্তের ফলাফল, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলোর আইনি নিষ্পত্তি হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

হত্যা মামলার তদন্তের পাশাপাশি ফয়সালের আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎস অনুসন্ধানেও কাজ করছে সিআইডি।

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত