, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 63%

চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৪৪ কিমি সড়ক উন্নয়নে ১,৪৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় পাঁচ জেলার প্রায় ২৪৪ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক পুনর্নির্মাণ, প্রশস্তকরণ ও সংস্কার করা হবে।

‘চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (তৃতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ১৬টি জেলা মহাসড়কের মোট ২৪৩ দশমিক ৫৬৮ কিলোমিটার অংশ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪৮ দশমিক ৩৭২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্নির্মাণ, ১৪২ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ১৬৩ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার সড়ক মজবুত করা হবে। এ ছাড়া ২৩১ দশমিক ৬১৮ কিলোমিটার সড়কে নতুন সার্ফেসিং করা হবে। জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় নির্মাণ করা হবে ১১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক।

সড়কের স্থায়িত্ব ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নত করতে ১৬৪টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রেন, ইউ-ড্রেন, রিটেইনিং ওয়াল এবং সড়কের ঢাল রক্ষায় কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, সন্দ্বীপ, পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ ও আনোয়ারা রয়েছে। কক্সবাজার জেলার উখিয়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়া ও রামু; রাঙামাটির কাউখালী, রাজস্থলী ও বাঘাইছড়ি; খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়ি এবং বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িও প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

সওজের চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। এখন সরকারি আদেশ (জিও) জারি এবং প্রয়োজনীয় প্রাক্কলন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষে দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। তবে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতের পণ্য ও সেবা পরিবহনে সুবিধা বাড়তে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকার উৎপাদিত পণ্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৮৩ কোটি ৭১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার পর প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করা হয়। এতে মোট ব্যয় কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।

প্রস্তাবিত বরাদ্দের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি সেবা স্থানান্তরের জন্য ৪৮ কোটি ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের সড়ক যোগাযোগ সমস্যার উন্নতি হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন, নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারই হবে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত