, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 32° সে. | 💧 আদ্রতা 59%

স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে, ফেনীতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সফরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, এসব পক্ষ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এ ধরনের তৎপরতার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সরকার নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নারীর প্রতি সহিংসতার অভিযোগে একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সদস্যের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করা হবে। নতুন শয্যার পাশাপাশি ডায়ালাইসিস এবং মা ও শিশুর চিকিৎসাসেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর ফলে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে স্থানীয় পর্যায়েই সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রকল্পে থাকছে যেসব কাজ

১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কার্ড ও সম্মানী বিতরণ

ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে ৫১০টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড এবং জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়। এছাড়া ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হয়। অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা ইস্কান্দার মজুমদারের পৈতৃক বাড়ি। ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত