, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 74%

৭০ বছর পর ব্রহ্মপুত্র পথে ঢাকার উদ্দেশে আসামের পণ্যবাহী নৌযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় সাত দশক পর আবারও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের জন্য নৌপথে ফিরেছে আসামের ডিব্রুগড়। সোমবার ব্রহ্মপুত্র নদের বোগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি নৌযান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিসিএল) নামরূপ কারখানায় উৎপাদিত মিথানল চালানটি ঢাকার পানগাঁও বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ডিব্রুগড় থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার।

যাত্রাপথে নৌযানটি ব্রহ্মপুত্রের ন্যাশনাল ওয়াটারওয়ে-২ ব্যবহার করে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার অতিক্রম করবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।

নৌযাত্রার উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। অনুষ্ঠানে আসামের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

ভারতের স্বাধীনতার পর উজান আসাম থেকে কোনো বিদেশি বন্দরের উদ্দেশে এটিই প্রথম বড় ধরনের পণ্য চালান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ডিব্রুগড়ের নদীবন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

একসময় ডিব্রুগড় ছিল পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর। উনিশ শতকে কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমার নিয়মিত এ অঞ্চলে চলাচল করত। চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহনে ব্রহ্মপুত্রের নৌপথ ছিল গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।

তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পুরোনো বাণিজ্যিক নৌপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পে নদীর গতিপথ ও তলদেশে পরিবর্তন আসে। নৌবাণিজ্য কমতে কমতে ১৯৫৬ সালের অক্টোবরে ডিব্রুগড়ের স্টিমার ঘাট কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমান উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো ব্রহ্মপুত্রকে উত্তর-পূর্ব ভারতের পণ্য বিদেশি বাজারে পৌঁছানোর একটি কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী নৌকরিডর হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করা।

সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, নদীপথে পণ্য পরিবহনে জ্বালানি খরচ কম হয় এবং সড়কে ভারী যানবাহনের চাপও কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে আঞ্চলিক জলপথ যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এই উদ্যোগে ভারতের ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়ে অথরিটি, আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস, কোচিন বাঙ্কার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা যুক্ত রয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত