, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 79%

পৃথিবীর নিরাপদ সীমারেখায় লাল সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক

পৃথিবীর পরিবেশ ও মানবসভ্যতার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়টি ‘প্ল্যানেটারি বাউন্ডারি’ বা গ্রহীয় সীমার মধ্যে সাতটিই ইতোমধ্যে নিরাপদ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। নতুন এক বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘প্ল্যানেটারি হেলথ চেক ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমা অতিক্রম করা সাতটি ব্যবস্থার প্রতিটিতেই চাপ বাড়ছে। এর ফলে পৃথিবীর স্থিতিশীলতা ও বাসযোগ্য পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি এবং কিছু ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয় পরিবর্তনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের (PIK) প্ল্যানেটারি বাউন্ডারিজ সায়েন্স ল্যাবের উদ্যোগে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে ৬০ জনের বেশি বিজ্ঞানী অংশ নিয়েছেন।

বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, নিরাপদ সীমা অতিক্রম করা সাতটি ক্ষেত্র হলো—জলবায়ু পরিবর্তন, জীবমণ্ডলের অখণ্ডতা, ভূমি ব্যবস্থার পরিবর্তন, মিঠাপানির পরিবর্তন, বায়োজিওকেমিক্যাল প্রবাহ, কৃত্রিম বা নতুন ধরনের দূষণকারী উপাদানের বিস্তার এবং মহাসাগরের অম্লকরণ। এর মধ্যে মহাসাগরের অম্লকরণ ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো নির্ধারিত সীমা ছাড়ায়।

অন্যদিকে, স্ট্রাটোস্ফিয়ারিক ওজোন ক্ষয় এবং বায়ুমণ্ডলীয় অ্যারোসলের মাত্রা—এই দুটি গ্রহীয় সীমা এখনো নিরাপদ ব্যবস্থাপনার পরিসরের মধ্যে রয়েছে। তবে কিছু অঞ্চলে অ্যারোসল দূষণ এখনো উদ্বেগের কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বন, মাটি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র মানুষের নিঃসৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ, খরা, দাবানল ও বাস্তুতন্ত্রের অবক্ষয় অব্যাহত থাকলে এসব প্রাকৃতিক কার্বন শোষণকারী ব্যবস্থার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো, বন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পৃথিবীকে নিরাপদ সীমার কাছাকাছি ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত