, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 69%

বিমানবন্দরে অনিয়ম ঠেকাতে ফের সক্রিয় ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, ট্রলি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অপরিচ্ছন্নতা ও অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) পরিচালিত অভিযানে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

অভিযানের তথ্য নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিমানবন্দরে যাত্রীদের অভিযোগ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানোর কারণে নওশাদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ নামে পরিচিত এই কর্মকর্তা বর্তমানে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আগে থেকেই যাত্রীদের সহযোগিতায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ট্রলি সংকট কমাতেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ট্রলি এনে মেরামতের পর প্রায় ৫০০টি ট্রলি নতুন করে ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১ হাজার ট্রলি সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে।

ট্রলির অবস্থান ও সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ টিমও কাজ করছে। শিফটভিত্তিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রলির সংখ্যা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রানওয়ে মেরামতের কারণে রাতে কয়েক ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় পরবর্তী সময়ে একসঙ্গে বেশি ফ্লাইট অবতরণ করছে। ফলে ব্যস্ত সময়ে ট্রলির তুলনায় যাত্রীর চাপ বেড়ে গিয়ে কোথাও কোথাও দীর্ঘ অপেক্ষার সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

লাগেজ ব্যবস্থাপনাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, চুরি বা অন্য কোনো ধরনের হয়রানির অভিযোগ থাকলে যাত্রীরা বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ যাচাইয়ে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ফুটেজও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরে বর্তমানে চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে একজন ম্যাজিস্ট্রেট যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে থাকেন।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে চার এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধে মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ৫২৪ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

নওশাদ খান জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ালেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত