, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 32° সে. | 💧 আদ্রতা 60%

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা, চুয়েটে বাড়ছে অচলাবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ১০ থেকে ১১ জন ভেতরে আটকা পড়েন। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পরিস্থিতির অবসান হয়নি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে সকাল ৯টার দিকে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা দেওয়া হলেও উপাচার্য বের না হওয়ায় তাঁরা তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আন্দোলনকারীরা একই দিন সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁদের ঘোষণা, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে।

অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ দুজন

দীর্ঘ সময় ভবনের ভেতরে অবস্থান করার মধ্যে দুজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে অসুস্থতার খবর পেয়ে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। এ সময় প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে তা ১৭০/১০০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া যায়। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্য একজনও অসুস্থ বোধ করছিলেন বলে জানান চিকিৎসক।

নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সুস্থ আছেন। তবে ভেতরে অবস্থানরত দুজন সাবেক শিক্ষার্থী উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে তিনি চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছেন বলেও জানান।

তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ একাডেমিক কার্যক্রম

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতিতে রয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ।

দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপাচার্যের পদত্যাগ ও সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থানের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত