কৃষক ও কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ীদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে ডিজিটাল লেনদেনভিত্তিক অর্থায়ন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএফপিআরআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া এ কর্মসূচিতে সহায়তা দিচ্ছে গেটস ফাউন্ডেশন।
দুই বছর মেয়াদি পরীক্ষামূলক প্রকল্পটির লক্ষ্য ৫০ হাজার কৃষক ও ১ হাজার ৫০০ কৃষি উপকরণ বিক্রেতাকে ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে প্রকল্পটি ২০২৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা।
উদ্যোগটির আওতায় ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধার কথা জানানো হয়েছে। তবে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যোগ্যতা ও ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
লেনদেনের তথ্য দিয়ে মূল্যায়ন হবে ঋণযোগ্যতা
কৃষক ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ নিয়মিত আয়, ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা আর্থিক সক্ষমতার পর্যাপ্ত নথি দেখাতে না পারায় ব্যাংকঋণ পেতে সমস্যায় পড়েন। ফলে তাঁদের অনেককে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে ঋণ নিতে হয়।
এই বাধা কমাতে কৃষক ও কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস ব্যবহার করে তাঁদের আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণযোগ্যতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে প্রচলিত নথিপত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে ঋণ পেতে সমস্যায় পড়া ব্যক্তিদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘আস্থা’, ‘সাফল্য’ ও ‘জীবিকা’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক কাজে লাগানো হবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট ও ঋণসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে শুধু ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস থাকলেই ঋণ নিশ্চিত হবে না। ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
প্রকল্পের প্রভাব যাচাই করবে আইএফপিআরআই
ঋণসেবা চালুর পাশাপাশি উদ্যোগটির কার্যকারিতা ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করবে আইএফপিআরআই। এ মূল্যায়নে দৈবচয়নভিত্তিক গবেষণাপদ্ধতিও ব্যবহার করা হবে।
কৃষক ও কৃষি উপকরণ বিক্রেতারা ডিজিটাল আর্থিক সেবা গ্রহণে কতটা আগ্রহী, এসব সেবা তাঁদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে এবং বৃহত্তর পরিসরে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না—গবেষণায় এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ ও দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।
ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ আবদুল মোমেনের মতে, কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনকে অর্থায়নের মূল্যায়নে কাজে লাগানো গেলে তাঁদের আর্থিক কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
গেটস ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি প্রোগ্রাম অফিসার স্নিগ্ধা আলী মনে করেন, ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে কৃষকদের জীবিকা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, আইএফপিআরআইয়ের রিসার্চ ফেলো ও প্রকল্পপ্রধান মেহরাব বখতিয়ার জানান, ডিজিটাল আর্থিক সেবা কৃষকদের জীবনে কী পরিবর্তন আনে এবং তাঁদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা গবেষণার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হবে।
এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে কৃষি খাতে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।
ইতি/
