, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 93%

আড়িয়ল বিলের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আড়িয়ল বিল থেকে সংগ্রহ করা কই, বাটা, নান্দিনা (মেনি), গুলশা টেংরা ও পুঁটি—এই পাঁচ প্রজাতির মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসপেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।

২০২৪ সালের বর্ষা, ২০২৪-২৫ সালের শীত এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে বিলের বিভিন্ন স্থান থেকে পানি, তলানি ও মোট ১৫০টি মাছ সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী Journal of Hazardous Materials Advances-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, সর্বভুক স্বভাবের কারণে কই মাছের শরীরে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়েছে। শুধু অন্ত্র বা ফুলকায় নয়, মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত মাংসপেশিতেও অন্য মাছের তুলনায় কই মাছে বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বিপরীতে সবচেয়ে কম মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে পুঁটি মাছে।

গবেষকদের মতে, মাছের অন্ত্র ও ফুলকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আগেও দেখা গেলেও, খাদ্যোপযোগী মাংসপেশিতে এর উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এ ছাড়া আড়িয়ল বিলের প্রতি লিটার পানিতে এবং তলানিতেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপাইলিন ও পলিস্টাইরিনজাত প্লাস্টিক, যা সাধারণত প্লাস্টিক ব্যাগ, মোড়ক, সিনথেটিক তন্তু ও মাছ ধরার জাল থেকে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।

গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, বর্তমানে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। মাছ খাওয়ার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, প্লাস্টিক বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলেই এ ধরনের দূষণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত