, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 93%

ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা বন্ড নীতি, বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক ভিসা ব্যবস্থার বাস্তবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্র ৩ আগস্ট থেকে বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন ও চিকিৎসা) ভিসার ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে ‘ভিসা বন্ড’ নীতি কার্যকর করেছে। প্রায় এক বছর পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। নতুন নীতির আওতায় নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার আগে ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দিতে হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান (ওভারস্টে) কমানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে এলে জমা রাখা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করলে সেই অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

বাংলাদেশসহ প্রায় ৫০টি দেশের নাগরিক এই নীতির আওতায় পড়েছেন। তবে এটি সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সাক্ষাৎকার শেষে আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা, পূর্ববর্তী ভ্রমণের ইতিহাস এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে কনস্যুলার কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নেবেন বন্ড প্রয়োজন হবে কি না এবং কত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির পেছনে শুধু অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিবেচনাও থাকতে পারে। একদিকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কঠোর অভিবাসন নীতির বার্তা দেয়, অন্যদিকে যেসব দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বা বহিষ্কৃত নাগরিক ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জটিলতা রয়েছে, তাদের প্রতিও একটি কৌশলগত সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। উন্নয়নশীল দেশের অনেক ব্যবসায়ী, পর্যটক বা চিকিৎসাপ্রার্থীর জন্য কয়েক লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থ দীর্ঘ সময়ের জন্য জমা রাখা কঠিন হতে পারে। ফলে বৈধ ভ্রমণ, ব্যবসায়িক সফর, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসা ভ্রমণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যাখ্যা মূলত ওভারস্টে হার ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ঢাকা-ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক কারণ উল্লেখ করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত ও তথ্যভিত্তিক সংলাপ জোরদার করা এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া। একই সঙ্গে ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ভিসা নীতি আর শুধু ভ্রমণের অনুমতি নয়; এটি এখন জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদানে পরিণত হয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতিও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত