, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 85%

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফল জালিয়াতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণসহ বিভিন্ন সময়ে ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগের তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট স্বপন বলেন, তদন্ত কমিটি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ব্যাপারে তারা দায়িত্বশীল। তবে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় প্রয়োজন হতে পারে।

আগেও ৩৪ খাতায় নম্বর বাড়ানোর অভিযোগ

শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের সময় ৩৪টি উত্তরপত্রের নম্বরপত্রে অতিরিক্ত নম্বর যুক্ত হওয়ার ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ জানান, পুনঃনিরীক্ষণের সময় পরীক্ষকরা উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বর লিখেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে ফলাফল শিটে ৩৪টি উত্তরপত্রের ক্ষেত্রে বেশি নম্বর ইনপুট দেওয়া হয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সঠিক নম্বর সংশোধন করে পুনঃনিরীক্ষণের চূড়ান্ত ফল প্রস্তুত করা হয়।

কম্পিউটার সেন্টারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখান থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

২০২৩ সালের এইচএসসি ফল নিয়েও মামলা

এর আগে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলের ফলাফলে একাধিক বিষয়ে নম্বর বাড়ানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হয় এবং সম্প্রতি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।

কম্পিউটার সেন্টার ঘিরে প্রশ্ন

বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ফলাফল প্রস্তুতের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয় কম্পিউটার সেন্টারে। উত্তরপত্র থেকে প্রাপ্ত নম্বর এবং স্ক্যান করা তথ্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়।

ফল প্রকাশের আগে বিভিন্ন তথ্য একত্র করে শিক্ষার্থীর ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পর্যায়েই কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পরিচয় শনাক্ত করে নম্বর পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

২০২৩ সালের এইচএসসি ফল পরিবর্তনের ঘটনায় আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রেও কম্পিউটার সেন্টারকেন্দ্রিক তথ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় কম্পিউটার সেন্টারে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কাজ করা তিনজন অপারেটরকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এবার পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন প্রায় ৪০ হাজার

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন।

ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। বোর্ড সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ অথবা ১১ সেপ্টেম্বর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত