, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 32° সে. | 💧 আদ্রতা 58%

পটিয়ায় প্রসূতির মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সন্তান প্রসবের পর সাদিয়া সুলতানা সেতু নামে এক প্রসূতির মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতের ভাই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার বোন সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসায় অবহেলা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া গেলে সাদিয়াকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন চিকিৎসক ডা. মিনি বড়ুয়া। তার ভাষ্য, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি। পরে রোগীর প্রসবোত্তর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা পোস্টপার্টাম হেমোরেজ (পিপিএইচ) শুরু হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। পটিয়ায় সীমিত চিকিৎসাসুবিধার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে সাদিয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন তার প্রসববেদনা ছিল এবং জরায়ুর মুখ প্রায় ১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার খোলা ছিল। শুরুতে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জরায়ুর মুখ পুরোপুরি খোলার পরও এক ঘণ্টার বেশি সময় পর্যবেক্ষণে শিশুর মাথা নিচের দিকে না নামায় এবং মাথায় ফোলা দেখা দেওয়ায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হাসপাতালের দাবি, পরিবারের সম্মতি নিয়েই অস্ত্রোপচার করা হয় এবং অপারেশনের সময় কোনো জটিলতা দেখা যায়নি। তবে অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই ঘণ্টা পর রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের পক্ষ থেকে পিপিএইচ ব্যবস্থাপনার প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ, কনডম ভেলন ক্যাথেটার স্থাপন এবং দুই ইউনিট রক্ত দেওয়া হয়। এরপরও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অ্যাম্বুলেন্সে দেওয়ার জন্য আরও দুই ইউনিট রক্তও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

ডা. মিনি বড়ুয়া বলেন, সন্তান জন্মের পর স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত রক্তপাতকে পোস্টপার্টাম হেমোরেজ বা পিপিএইচ বলা হয়। এটি একটি গুরুতর ও জরুরি চিকিৎসাগত অবস্থা, যাতে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মায়ের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এদিকে সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে রয়েছেন ডা. এমদাদুল হাসান, ডা. আনজুমান নিগাদ উর্মি ও ডা. প্রহর উল আলম। কমিটিকে ঘটনার কারণ এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত