পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দল-মত ও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় নিজের প্রথম সরকারি সফর উপলক্ষে আয়োজিত একাধিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। দিনব্যাপী সফরে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় করেন তিনি।
সীমান্তবর্তী উপজেলার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। উন্নয়নের সুফল যেন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, চোরাচালান প্রতিরোধ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। সভায় ১১ বিজিবি (নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন)-এর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের কাচারি পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন সাচিং প্রু জেরী। এ সময় স্থানীয় জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যচাষীদের সহযোগিতার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
পরে নাইক্ষ্যংছড়ির একটি বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। এ সময় পার্বত্য এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থান আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া উপজেলা রেস্ট হাউস প্রাঙ্গণে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সাচিং প্রু জেরী। সভায় স্থানীয়রা যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও সীমান্ত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী এসব বিষয় পর্যায়ক্রমে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
দিনব্যাপী সফরে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে সরাসরি অবহিত হন পার্বত্য মন্ত্রী।
ইতি/
