চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কলেজে কয়েক মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তহবিল থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নন-এমপিও ও খণ্ডকালীন শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিকভাবে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেতন বন্ধ থাকায় কেউ বাসাভাড়া দিতে পারছেন না, আবার কেউ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ধারদেনা করছেন। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতেও কয়েকজন শিক্ষক সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কলেজের আর্থিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি নূর মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে মাউশি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন না আসায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের বিষয়টি ঝুলে আছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পাহাড়তলী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক আতাউল হক ভূঁঞা কলেজের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে মাউশিতে চিঠি দেন। সেখানে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অর্থ তছরুপের অভিযোগ, হিসাব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পক্ষপাতের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাউশির চট্টগ্রাম অঞ্চলে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন ভাতা নিয়ে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত এবং অধ্যক্ষের বেতন-বিল প্রস্তুত না করার বিষয়েও জটিলতা তৈরি হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তহবিল থেকে কয়েক মাস ধরে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক পম্পা বড়ুয়া বলেন, বেতন না পাওয়ায় দৈনন্দিন খরচ চালাতে তাদের অন্যের কাছে সহযোগিতা চাইতে হচ্ছে। কয়েক মাস ধরে বাসাভাড়াও দিতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মিজানুর রহমানও আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কলেজের অনিয়ম নিয়ে কথা বলার পর তাকে মারধরের অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় অধ্যক্ষসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
এর আগে আগস্টের শেষ দিকে মিজানুর রহমানকে কলেজ থেকে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে ওয়াকিল হোসেন বগার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় শিক্ষক আহত হওয়ার কথা জানান এবং পরে মামলা করেন। অভিযুক্ত ওয়াকিল হোসেন বগা অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছিলেন।
পাহাড়তলী কলেজে এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীসহ মোট ৫০ জন কর্মরত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাদের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ২৫ জন, কর্মচারী ১০ জন, নন-এমপিও শিক্ষক ৭ জন, খণ্ডকালীন শিক্ষক ৫ জন এবং খণ্ডকালীন কর্মচারী ৩ জন।
এ বিষয়ে মাউশির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক এমএম সহিদুল ইসলাম বলেন, আগের পরিচালক থাকাকালে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইতি/
