, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 32° সে. | 💧 আদ্রতা 59%

বাকলিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সৈয়দ শাহ রোড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুরাদ ও জসিমের অনুসারীদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। এর জের ধরে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।

ঘটনার সময় সড়কে লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনকে অবস্থান করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা গেলেও সেগুলো গুলির শব্দ কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফটকা এবং টিনের ছাদে পাথর পড়ার শব্দকেও অনেকে গুলির শব্দ হিসেবে শুনে থাকতে পারেন।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুরাদ ও জসিমের অনুসারীদের মধ্যে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ওই বিরোধ থেকেই সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে সংঘর্ষের পেছনে ঠিক কোন বিষয়টি প্রধান কারণ—মাদক ব্যবসা, জায়গা দখল নাকি আধিপত্য বিস্তার—তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

ঘটনার পর বাকলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জসিমসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হলেও গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মুরাদ ও জসিম দুজনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। তাঁদের অনুসারীদের নিয়ে এলাকায় পৃথক বলয় তৈরি হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই পক্ষের বিরোধের কারণে ওই এলাকায় মাঝেমধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মুরাদ নিজেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চান্দগাঁও থানা যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, তিনি দলের কোনো পদে নেই এবং তাঁর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। একইভাবে জসিমও স্থানীয় যুবদলের এক নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিলেও সংশ্লিষ্ট নেতা তাঁর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, মুরাদ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মাদক ব্যবসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জসিমের পক্ষই এলাকায় মাদক বিক্রি করছে এবং সেটি বন্ধ করতে লোকজন পাঠানোর পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে জসিমের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়েও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নগর যুবদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত কারও জন্য সংগঠনে কোনো জায়গা নেই এবং অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত