, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 87%

ইরানের পাশে থাকা দেশগুলোকেও শাস্তির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা বা দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থা ইরানকে সহায়তা করবে, তাদেরও অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে। যুদ্ধের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক মার্কিন হুমকির পর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।

ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে। এবার ওয়াশিংটনের লক্ষ্য শুধু ইরান নয়, দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখা তৃতীয় দেশগুলোকেও চাপের আওতায় আনা।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে চীনকে ঘিরে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, চীন ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা এবং ২০২৫ সালে দেশটি ইরান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। ফলে ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গেলে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রার নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক চাপ ও অবরোধের মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানো হবে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি সোমবার সংবাদ সম্মেলন করার কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরনের নীতি উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন ব্যর্থতা তৈরি করতে পারে।

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা অন্যান্য দেশও এখন নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। Reuters-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীনের পাশাপাশি তুরস্ক, ইরাক, ওমান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হতে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়লে শুধু তেহরান নয়, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য করা অংশীদার দেশগুলোর অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযান কতটা কার্যকর হবে এবং এর ফলে ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদারের পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত