চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ব্লকে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর চাপ কমছে না। ৫০ শয্যার ব্লকে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৩৩ শিশু। ফলে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি শিশুদের মধ্যে নিচতলার হাম ব্লকে ৯১ জন, দ্বিতীয় তলার ব্লকে ৩২ জন এবং পিআইসিইউতে রয়েছে ১০ জন।
চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ দুই বছরের কম বয়সী। কারও টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি, আবার অনেকে টিকা নেয়নি বা পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেনি। ফলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় একই স্থানে অতিরিক্ত রোগী থাকলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, হামের পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই শিশু ভর্তি হচ্ছে। টিকা না নেওয়া, টিকার ডোজ অসম্পূর্ণ থাকা এবং টিকা নেওয়ার বয়স না হওয়া—বিভিন্ন কারণেই আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে আসতে হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, রোগীর চাপ বেড়েছে। তবে উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের আলাদাভাবে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও ২৬ আগস্ট হাম পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
ইতি/
