দীর্ঘদিন ধরে চলা পানির সংকট কাটাতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ লক্ষ্যে রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় অবস্থিত কর্ণফুলী পানি শোধনাগার থেকে চুয়েট পর্যন্ত আট ইঞ্চি ব্যাসের বিতরণী পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) চুয়েট ক্যাম্পাসে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় থাকা কর্ণফুলী পানি শোধনাগার-১ ও ২ থেকে বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীতে দৈনিক প্রায় ২৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এবার এই সরবরাহব্যবস্থার আওতায় চুয়েটকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চুয়েটের পানি চাহিদা এতদিন মূলত ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাওয়ায় বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ক্যাম্পাসে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আবাসিক এলাকার বাসিন্দাসহ প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষের বসবাস।
পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান চেয়ে গত ১৫ জুন চট্টগ্রাম ওয়াসার কাছে আবেদন করে চুয়েট কর্তৃপক্ষ। এরপর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় কারিগরি নকশা, পাইপলাইনের পরিকল্পনা, পাম্পের সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনকে (বিআরটিসি) দায়িত্ব দেয় ওয়াসা।
এরই ধারাবাহিকতায় কর্ণফুলী পানি শোধনাগার থেকে চুয়েট পর্যন্ত আট ইঞ্চি পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, চুয়েট দীর্ঘদিন ধরে পানির সমস্যায় রয়েছে। এ সংকট নিরসনে ওয়াসার পক্ষ থেকে সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করে চুয়েটে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চুয়েট ১৯৬৮ সালে রাউজানে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পাঁচটি অনুষদের অধীনে ১৮টি বিভাগে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ক্যাম্পাসে রয়েছে ছয়টি ছাত্র হল ও তিনটি ছাত্রী হলসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক সুবিধা।
ইতি/
