, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই চিড়িয়াখানায় ফ্রি প্রবেশ শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এখন থেকে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির মতবিনিময় সভায় এ উদ্যোগের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে সরাসরি সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ জন্য চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সামনে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান রাখা হবে। সেখানে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি। যত্রতত্র ফেলে রাখা প্লাস্টিক সহজে মাটির সঙ্গে মিশে না। বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিক জমে পানি আটকে গেলে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্গন্ধসহ নানা ধরনের পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পৃথিবী মানুষের বসবাসের একমাত্র স্থান। তাই পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

কৃষিজমির মাটি কাটার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান

সভায় কৃষিজমির ওপরের উর্বর মাটি বা টপসয়েল কেটে ইট তৈরির বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। ইট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহে খাল খনন কিংবা উন্নয়নকাজ থেকে বৈধভাবে পাওয়া মাটি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কৃষিজমি বা অন্য কোনো জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ রক্ষায় মানুষের আচরণ ও কর্মপদ্ধতিতে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সময়মতো নিজেদের মানিয়ে নিতে না পারায় একসময় বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান কোডাকের অবস্থান বদলে যাওয়ার উদাহরণও দেন তিনি।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রামের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক জমির উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমানসহ বন বিভাগ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি সভায় যুক্ত ছিলেন। জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও সভায় অংশ নেন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত