, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

মেয়াদোত্তীর্ণ মন্তব্যের জবাব শাহাদাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এর জবাবে শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ চসিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে তিনি পদ ছাড়তে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে তিনি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দেওয়া রায়ে তৎকালীন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। পরে ৩ নভেম্বর তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নেন।

শাহাদাতের দাবি, আদালতের ওই রায়ের ভিত্তিতেই তাঁর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এবং সেই মেয়াদ পাঁচ বছর হওয়ায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকার অধিকার রাখেন।

তবে চসিক নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের পক্ষে নিজের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে তিনি সেদিনই মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেবেন।

এদিকে শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে চসিক মেয়রের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি শাহাদাতকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ উল্লেখ করে নির্বাচনের মাধ্যমে আবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটে কেউ নির্বাচিত হলে তাকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তবে ভোটে অন্য কেউ নির্বাচিত হলে তাকেও মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে শাহাদাত হোসেন পাল্টা দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়র পদ ও মেয়াদের বৈধতাকে সমর্থন করা হয়েছে।

শাহাদাত আরও বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। ভবিষ্যতেও অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে তিনি স্বাগত জানাবেন বলে জানান।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের মেয়াদ নিয়ে অবশ্য এর আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালের নির্বাচিত চসিক পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। এ নিয়ে শাহাদাতের ২০২৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের দাবির বিপরীতে আইনজ্ঞ ও স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্টদের ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত