, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 67%

এক দিনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পাশাপাশি মানিকগঞ্জেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকজন আহত হলেও বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। মালিবাগ রেলগেট এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেছিল। ওই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যাত্রাবাড়ীতে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণে মো. বিল্লাল নামে এক রিকশাচালক আহত হন। একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বাস ও একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন অংশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রেলওয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং পরে সেখানে নিরাপত্তা ও টহল জোরদার করা হয়।

এরপর রাজধানীর সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকা ও শাহবাগের তিন নেতার মাজারের পাশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনাতেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর বাইরে শনিবার রাত ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ওভারব্রিজের নিচে একটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জুলুস খান জানান, এতে কেউ আহত হননি। তবে বিস্ফোরণের পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট-নতুন ব্রিজ সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের যে তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে এসেছে, সেটি নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। নির্ভরযোগ্য পুলিশি নিশ্চিতকরণ না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন না করাই সমীচীন।

রোববার দুপুরে রাজধানীর হাইকোর্টের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, দুপুর ১টার কিছু পর এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত করছে।

একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, প্রবেশপথ ও জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

তবে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার মধ্যে কোনো সমন্বিত যোগসূত্র রয়েছে কি না, কিংবা কারা এসব ঘটনায় জড়িত—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত