তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দেশের ৬৪ জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার তরুণ-তরুণীদের এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের জন্য সারাদেশ থেকে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি আবেদন গ্রহণ করা হয়। এসব আবেদনকারীর মধ্য থেকেই লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬৪ জেলা থেকে ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জনকে উন্নত বা অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ৬৪ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন। ঢাকায় প্রতিযোগিতার হার সবচেয়ে বেশি; সেখানে ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ১৭ হাজার ৫৫২টি।
পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পরবর্তী ধাপে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ২৭ সেপ্টেম্বর এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ তরুণ-তরুণীকে এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে মৌলিক এবং ১ হাজার ৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রকল্পের আওতায় ২৫ জন করে প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে মোট ৪৪৮টি ব্যাচ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ হবে দুই মাসব্যাপী। এ সময়ে ৫০টি ক্লাসে মোট ৩০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইতি/
