, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 32° সে. | 💧 আদ্রতা 58%

সপ্তম দিনেও অচল চুয়েট

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সপ্তম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশও কর্মবিরতি পালন করছেন।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মুখোশ মিছিল, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা। সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও অহিংস কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। জরুরি সেবা হিসেবে নিরাপত্তা শাখা ও চিকিৎসাকেন্দ্রকে কর্মসূচির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

এর আগে সোমবার আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে প্রতীকী ক্রিকেট পিচ তৈরি করে ‘৫৬ বল শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। সায়েমের ৫৬ দিনের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তুলে ধরতে বিভিন্ন প্রতীকী কর্মসূচিও পালন করা হয়। সন্ধ্যায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সিনেমা প্রদর্শনের পাশাপাশি রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা।

কেন এই আন্দোলন

চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম ২৭ জুলাই দায়িত্ব নেন। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে আন্দোলনের কারণে তিনি এখনো ক্যাম্পাসে স্বশরীরে যোগ দিতে পারেননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। বিষয়টির দ্রুত সমাধান এবং সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অবস্থান

অন্যদিকে, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অভিযোগ করেছেন, শিক্ষকরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে অংশ নিতে বাধ্য করেছেন। তবে পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষক সমিতি জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে পরবর্তীতে অতিরিক্ত ক্লাস ও অন্যান্য একাডেমিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন।

এদিকে আন্দোলন ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হুমকি, চাপ ও নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগও উঠেছে। আন্দোলনকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ইতি/

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত