, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 32° সে. | 💧 আদ্রতা 59%

চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি প্রতিনিধিদল সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সামিউন বাসির।

তিনি জানান, বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ও চলমান অচলাবস্থার বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য পদে বহালের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। এ দাবির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তিও তুলে ধরেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

সামিউন বাসিরের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধিদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শুনেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে তারা আশা করছেন।

এদিকে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে চুয়েটের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন এবং নিয়মিত ক্লাসে ফিরবেন না।

চুয়েট সূত্রে জানা যায়, ২৭ জুলাই যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ৫৬ দিন পর ২১ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

উপাচার্য পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে কমপ্লিট শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও সংহতি প্রকাশ করেন।

এর মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে ১৩ দিন ধরে চুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত