, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 74%

প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বাংলাদেশে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। এ বাস্তবতায় আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ‘সবার জন্য বাসস্থান’ বলতে শুধু একটি ঘরের ব্যবস্থা নয়; নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার নিশ্চয়তাকেও এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

নগরজীবনের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ, যানজট, দূষণ, পর্যাপ্ত নাগরিক সেবার ঘাটতি, আবাসন সংকট এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের মানুষ ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাণীতে আরও জানানো হয়, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এসব উদ্যোগ নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-১১ অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই আবাসন ও নগরায়ন বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন, বস্তি উন্নয়ন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কার্যকর হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগর ও গ্রাম—সব এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা এবং সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিশ্ব বসতি দিবসের সাফল্য কামনা করেন তিনি।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত