, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 80%

ফুটপাত-রেলস্টেশনেই ব্যবসা, চার লাখ টাকার জার্সি বিক্রি দুই শিক্ষার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্ধুদের আড্ডায় বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে জার্সি বিক্রির একটি সাধারণ আলোচনা থেকেই জন্ম নেয় ব্যবসার ধারণা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে মাত্র ১৩টি জার্সি দিয়ে যাত্রা শুরু করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই শিক্ষার্থী। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ফুটপাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বসে তাঁরা প্রায় চার লাখ টাকার জার্সি বিক্রি করেছেন।

এই দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মনির হোসেন এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন। দুজনেরই বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। দীর্ঘ প্রায় আট বছরের বন্ধুত্বের সূত্র ধরে ব্যবসা নিয়ে তাঁদের নানা পরিকল্পনা থাকলেও এবারই প্রথম বাস্তবে তা রূপ নেয়।

গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দুটি টেবিল ও স্ট্যান্ড নিয়ে ছোট্ট একটি জার্সির দোকান চালু করেন তাঁরা। বর্তমানে প্রতিদিন বিকেলে সেখানে বিভিন্ন দেশের ফুটবল দলের জার্সি বিক্রি করেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের ফুটপাতেও একইভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে তাঁদের দোকানে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন ও ফ্রান্সের জার্সির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। শিক্ষার্থীদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।

মনির হোসেন জানান, অনেক দিন ধরেই ব্যবসা করার ইচ্ছা ছিল। তবে কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয় কিংবা ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়, সে বিষয়ে তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। স্নাতকোত্তরে ওঠার পর সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরের পর বন্ধুদের আড্ডায় জিয়া উদ্দিন বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সি বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে পরিচিত এক সিনিয়রের কাছ থেকে মাত্র ১৩টি জার্সি সংগ্রহ করে ব্যবসা শুরু করেন। ভালো সাড়া পাওয়ায় ধীরে ধীরে পুঁজি বাড়িয়ে আরও জার্সি সংগ্রহ করা হয়।

শুরুর দিকে দুই বন্ধু মিলে প্রায় ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। বিক্রির অর্থ পুনরায় ব্যবসায় বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি জার্সি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তাঁদের কাছে প্রায় ২৫ হাজার টাকার জার্সি মজুত রয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে দুই মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাভ করেছেন তাঁরা। মোট বিক্রির পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় চার লাখ টাকায়

জিয়া উদ্দিন বলেন, এই উদ্যোগ তাঁদের শুধু আর্থিক লাভই দেয়নি, ব্যবসা পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতাও দিয়েছে। সরবরাহকারী, ক্রেতা এবং বাজার সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হয়েছে।

দুই উদ্যোক্তা জানান, শুরুতে তাঁরা তুলনামূলক উচ্চমানের জার্সি বিক্রি করলেও পরে শিক্ষার্থীদের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে কম দামের জার্সিও যুক্ত করেন। বর্তমানে মূল্যভেদে তিনটি ক্যাটাগরির জার্সি বিক্রি করছেন তারা

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মনির হোসেন বলেন, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্যবসা শুরু হলেও তাঁরা শুধু জার্সি বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেতাদের কাছেও জার্সি সরবরাহ করা হচ্ছে।

ইতি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত