, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 80%

স্থগিত পরীক্ষা, শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এইচএসসি পরীক্ষা দ্রুত শুরুর দাবিতে শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীদের স্মারকলিপি, নতুন রুটিনের আশ্বাস চেয়ারম্যানের

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বন্যার কারণে স্থগিত থাকা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দ্রুত শুরু করার দাবিতে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। রোববার সকালে বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল নগরের ষোলোশহরে অবস্থিত চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে গিয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেয়।

স্মারকলিপিতে পরীক্ষার্থীরা বর্তমান রুটিন অনুযায়ী দ্রুত পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার পাশাপাশি স্থগিত হওয়া বিষয়গুলোর জন্য অন্তত দুই থেকে তিন দিনের বিরতি রেখে সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানান। তাঁদের ভাষ্য, দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা চলমান থাকলেও চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকায় তারা একাডেমিকভাবে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা শেষ হলেও বাকি ১৪টি বিষয়ের পরীক্ষা এখনো স্থগিত রয়েছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই দ্রুত পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই মানবিক কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দাবি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রথমে চলমান রুটিনের পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে। পরে স্থগিত হওয়া বিষয়গুলোর জন্য পৃথক সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। প্রয়োজনে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষাও নেওয়া হতে পারে।

অন্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও স্থগিত করার দাবির বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রায় এক লাখ পরীক্ষার্থীর কারণে দেশের বাকি প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বন্ধ রাখা বাস্তবসম্মত নয়। তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার ‘অটো পাস’ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বিবেচনা করছে না; মানসম্মত মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষা গ্রহণের বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার টানা বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করে অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

ইতি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত