মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির ঘটনা শনাক্তের পর এবার চট্টগ্রাম নগরেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগে একটি BMW গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নগরের রহমতগঞ্জ এলাকার সাত্তার মঞ্জিলের একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে গাড়িটি জব্দ করা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি পূর্ণাঙ্গ মোটরযান হিসেবে আমদানি না করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আকারে দেশে এনে স্থানীয়ভাবে সংযোজন করা হয়ে থাকতে পারে।
জব্দের সময় গাড়িটিতে ‘চট্ট মেট্রো-গ ১১-৩৬৫১’ নম্বরের একটি নিবন্ধন প্লেট পাওয়া যায়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের দাবি, নম্বরটি অন্য একটি পুরোনো BMW গাড়ির নিবন্ধন নম্বর হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ জানান, গাড়িটি অবৈধভাবে আমদানি কিংবা শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাড়িটির প্রকৃত আমদানি পদ্ধতি ও রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির বিভিন্ন অংশ দুবাই থেকে বাংলাদেশে আনার পর দেশে সংযোজন করা হয়ে থাকতে পারে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে মোহাম্মদ আইয়ুব নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে এসেছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।
অভিযানের সময় গাড়িটির বৈধ আমদানি, মালিকানা ও শুল্ক পরিশোধসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সেসব নথি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কাস্টমস। গাড়ির চাবি না পাওয়ায় পরে ক্রেনের মাধ্যমে সেটি ট্রাকে তুলে আগ্রাবাদে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে একই দিন মোংলা বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া একটি চালান থেকে চারটি বিলাসবহুল গাড়ির বড় অংশ শনাক্ত করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ওই চালানে রেঞ্জ রোভার ভোগ, BMW 650i, Lexus LX570 ও Toyota Crown Athlete-এর অংশ পাওয়া যায়। কাস্টমসের প্রাথমিক হিসাবে গাড়িগুলোর সম্মিলিত সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মোংলার চালানে গাড়িগুলোকে তিন থেকে চারটি বড় অংশে বিভক্ত করে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের পাশাপাশি আমদানির প্রকৃত ধরন ও পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে তদন্ত চলছে।
চট্টগ্রামে জব্দ করা BMW গাড়িটির ক্ষেত্রেও একই ধরনের কোনো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। গাড়িটির প্রকৃত মূল্য, আমদানির নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাস্টমসের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
ইতি/
