, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

ডিসেম্বরের আগেই চালু হতে পারে পতেঙ্গার নতুন ইন্টারসেকশন ও ওভারপাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় যানজট কমিয়ে বিভিন্ন দিকের যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে নির্মাণাধীন ইন্টারসেকশন ও ওভারপাসের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট অংশের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে ওভারপাসের নির্মাণকাজ শেষ করে ডিসেম্বরের আগেই পুরো অবকাঠামো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ফৌজদারহাট–পতেঙ্গা আউটার রিং রোডের সঙ্গে নগরীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, বিমানবন্দর এবং ভবিষ্যতের বে টার্মিনালমুখী যান চলাচল যুক্ত হওয়ায় পতেঙ্গা এলাকায় যানবাহনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এ চাপ সামাল দিতে ইন্টারসেকশন ও ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের আউটার রিং রোড নির্মাণের পর ওই এলাকায় বিভিন্ন রুটের যানবাহনের প্রবাহ বেড়েছে। এর সঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও কর্ণফুলী টানেল চালু হওয়ায় বিমানবন্দর ও পতেঙ্গামুখী যানবাহনের চাপও যুক্ত হয়েছে। ফলে দ্রুতগতির সড়ক ব্যবহার করে অল্প সময়ে পতেঙ্গায় পৌঁছানো গেলেও শেষ অংশে যানজটের কারণে যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

এ ছাড়া রিং রোডের সঙ্গে চট্টগ্রাম ইপিজেডকে যুক্ত করতে নির্মাণাধীন ইপিজেড কানেক্টিং রোড চালু হলে এই এলাকায় যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় পতেঙ্গায় পাঁচ দিক থেকে আসা যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পৃথক পথে প্রবাহ নিশ্চিত করতে ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে রিং রোড হয়ে ঢাকামুখী যানবাহনের জন্য দুই লেনের একটি ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে বিমানবন্দরমুখী ও অন্যান্য রুটের যানবাহনের মধ্যে সংঘাত কমিয়ে চলাচলের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সিডিএ।

ইন্টারসেকশন, ওভারপাসসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪০০ কোটির বেশি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ইন্টারসেকশনের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ইপিজেড কানেক্টিং রোডের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সিডিএর চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নভেম্বরের মধ্যেই ওভারপাসের মূল কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর নিচের সড়কের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের আগেই ইন্টারসেকশন ও ওভারপাস চালু করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন ইন্টারসেকশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহন নিজ নিজ পথে চলাচলের সুযোগ পাবে। এতে একটি গাড়িকে অন্য গাড়িকে পাশ দেওয়ার জন্য থেমে থাকতে হবে না এবং পতেঙ্গা এলাকায় যান চলাচলে গতি ফিরবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পতেঙ্গা, বিমানবন্দর, টানেল, রিং রোড ও ইপিজেডমুখী যানবাহনের চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজটের চাপ কমবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত