চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে জরুরি চিকিৎসার জন্য মুমূর্ষু এক বৃদ্ধাকে স্পিডবোটে করে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামে নিতে হয়েছে। অক্সিজেনের প্রয়োজন থাকা অবস্থায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে দ্বীপটির জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে।
৮০ বছর বয়সী রওশন আরা বেগম সন্দ্বীপ পৌরসভার তালতলি বাজারসংলগ্ন ছটাই বাড়ির বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার সকালে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে।
সেখানে চিকিৎসকেরা দ্রুত চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দিলে স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রওনা হন। সকাল ১০টার দিকে স্পিডবোটে করে যাত্রা শুরু করে প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছান তাঁরা।
যাত্রাপথে রওশন আরাকে অক্সিজেন দিতে হয়। একই সময়ে সাগর ছিল উত্তাল, সঙ্গে ছিল বৃষ্টি। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে তাঁকে বৃষ্টি থেকে রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়।
রওশন আরার ছেলে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, জরুরি রোগী পারাপারের জন্য ঘাটে গিয়ে তাঁরা বিশেষ কোনো পরিবহন সুবিধা পাননি। শেষ পর্যন্ত অন্য যাত্রীদের সঙ্গে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়ায় স্পিডবোটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।
বর্তমানে রওশন আরা চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
অচল দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স
সন্দ্বীপে জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো অচল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস জানান, দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্সই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী। নতুন সি-অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সাগর উত্তাল থাকায় জরুরি রোগী নিয়ে স্পিডবোটে যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সন্দ্বীপবাসীর দাবি, দ্বীপের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর সি-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সংকটাপন্ন রোগীদের নিরাপদ ও দ্রুত চট্টগ্রামে স্থানান্তরের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকলে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা আরও ঘটতে পারে।
ইতি/
