, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

সন্দ্বীপে মাঝসাগরে ফেরি আটকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

তীব্র বৃষ্টি ও নাব্যতা সংকটে সন্দ্বীপ চ্যানেলে মাঝসাগরে আটকা পড়ে যাত্রী ও যানবাহনবোঝাই ফেরি কপোতাক্ষ। বুধবার সন্ধ্যায় গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফেরিটি কিছুদূর এগোনোর পর পলিমাটিতে আটকে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন কয়েক শত যাত্রী।

স্বাভাবিক সময়ে সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে যেখানে কয়েক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না, সেখানে ফেরি আটকে যাওয়ায় যাত্রীদের প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।

জানা গেছে, আবহাওয়া সতর্কতার কারণে টানা চার দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে গুপ্তছড়া ঘাট থেকে কপোতাক্ষ যাত্রা শুরু করে। কিছুদূর যাওয়ার পরই চ্যানেলের পলিমাটিতে আটকে যায় ফেরিটি। পরে জোয়ারের পানি বাড়লে রাতের দিকে ফেরিটি নড়াচড়া শুরু করে এবং বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাঁশবাড়িয়া ঘাটে পৌঁছায়।

ফেরিতে দুটি যাত্রীবাহী বাস, সাতটি ছোট-বড় ট্রাক এবং কয়েকটি ব্যক্তিগত যানবাহন ছিল। ফেরি কর্তৃপক্ষ যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১০০ বলে জানালেও একাধিক যাত্রীর দাবি, সেখানে প্রায় ৩০০ মানুষ ছিলেন।

ফেরিতে থাকা এক যাত্রী জানান, সন্ধ্যার পর আটকে যাওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য ফেরির ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পুরো ফেরি অন্ধকার হয়ে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে যাত্রীদের অনুরোধে প্রায় এক ঘণ্টা পর ইঞ্জিন চালু করা হয়।

রাতভর ফেরির ভেতরে অবস্থান করতে হয় যাত্রীদের। বৃষ্টি, অন্ধকার এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেকেই জোয়ারের অপেক্ষায় ছিলেন। রাতের দিকে জোয়ারের পানি বাড়লে ফেরিটি নড়তে শুরু করে। এতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

এদিকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে খাবার ও পানির সংকট দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। তাঁদের দাবি, ফেরির ক্যানটিনে কিছু খাবার ও পানীয় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের উদ্যোগে রাতে যাত্রীদের জন্য খাবার পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানা গেছে।

ফেরি আটকে যাওয়ার কারণ হিসেবে জোয়ার-ভাটার সময় বিবেচনায় না নেওয়াকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক ও পোর্ট অফিসার নয়ন শীল। তাঁর ভাষ্য, উপকূলীয় নৌপথে ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার বিষয়টি বিবেচনা করে সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ফেরির মাস্টারের গাফিলতি থাকতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ক্যানটিনে খাবার ও পানির অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ফেরি আটকে পড়ার খবর পেয়ে তিনি রাতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে তখন কোনো যাত্রী তাঁর কাছে এ ধরনের অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘ সময় ফেরি আটকে থাকার ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। ভবিষ্যতে জোয়ার-ভাটা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফেরি চলাচলের সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত