, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 85%

চট্টগ্রামের খাল-জলপথ পণ্য পরিবহনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরীর খাল ও জলপথকে শুধু পানি নিষ্কাশনের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে পণ্য পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সরকার। একই সঙ্গে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট রয়েছে। জনগণের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওকে সম্পৃক্ত করে নতুন একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে কাজ করবে। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে পানি সরবরাহের একটি নতুন মডেল পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

আমির খসরু বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, এর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। পিপিপি কাঠামোর মাধ্যমে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে টেকসই সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে নগরীতে পানি নিষ্কাশন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিরাপদ পানি সরবরাহের পাশাপাশি ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় নেদারল্যান্ডসের জলপথ ব্যবস্থাপনার উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশটির অনেক খাল একসময় ময়লা-আবর্জনায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। পরে সেগুলো পুনরুদ্ধার করে নৌযান ও পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের খাল ও জলপথেও একই ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সরকার চট্টগ্রামের জলপথগুলো কীভাবে পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করতে পারে, সে বিষয়েও কাজ করতে চায় বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, জলপথের যথাযথ ব্যবহার নগরীর যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এ টি এম তারিকুল ইসলাম, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পানি সরবরাহে উন্নতি ঘটতে পারে, অন্যদিকে নগরীর জলপথকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত