সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর বাড়তি আয়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে একই সময়ে নিত্যপণ্যের বাজারে দামের চাপ নিয়ে উদ্বেগে সাধারণ মানুষ।
চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে পণ্যভেদে দামের ওঠানামা থাকলেও মাছসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, কয়েকটি সবজির দাম কমলেও কিছু সবজি এখনো ১০০ টাকা বা তার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা দামের ওঠানামার পেছনে সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও পাইকারি বাজারের দামের প্রভাবের কথা বলছেন।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় একই পণ্য বিভিন্ন বাজারে ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের মাসিক বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে চাপ আরও স্পষ্ট। চট্টগ্রামে গত এক মাসে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে মাছ কিনতে গিয়ে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
তবে মুরগি ও ডিমের বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা রয়েছে। চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বাজারদরে ব্রয়লার মুরগির দাম কমে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। ডিমের দাম ছিল হালি ৪৭ থেকে ৫০ টাকা।
এদিকে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা ৯ম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করেছে। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের বড় প্রশ্ন এখন—বেতন বাড়ার সঙ্গে যদি পণ্য ও সেবার দামও বাড়তে থাকে, তাহলে বাড়তি আয়ের প্রকৃত সুফল কতটা ভোগ করতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা? আর এর প্রভাবই বা পড়বে কীভাবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর?
কারণ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে। ফলে শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, মানুষের আয় বাড়ার সুফল যেন বাজারদরের ঊর্ধ্বগতিতে হারিয়ে না যায়—এ জন্য বাজার তদারকি আরও জোরদার করবে সরকার।
ইতি/
