দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঘটনার মুখে পড়েন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ককপিটে সহকারী পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073 দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের পর ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
আহত অবস্থাতেও মাচ্ছার ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি করেন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। উড়োজাহাজে থাকা অন্য পাইলটরা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সেটিকে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান। ঘটনার পর হামলাকারী সহকারী পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ আটক করে। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে
১৩ বছরের বেশি উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতা
স্মিত মাচ্ছারের পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে তাঁর ১৩ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। তাঁর পেশাগত প্রোফাইলে প্রায় ৯ হাজার ৭৫০ ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
২০১১ সালে তিনি ভারতের স্পাইসজেটে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর ২০২২ সালের জুনে ফ্লাইদুবাইয়ে ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। স্পাইসজেটে তিনি সিনিয়র কমান্ডার ও লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে তাবুকের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভারতের রিয়াদ দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দূতাবাস তাঁর পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে।
উড়োজাহাজটির সব যাত্রীকে পরবর্তীতে সৌদি আরব থেকে ইসরায়েলে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফ্লাইদুবাই ঘটনার তদন্ত চলাকালে ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে ফেরত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।
ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ এখনো তদন্তাধীন।
ইতি/
