২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইনের শাসন জোরদারে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মাননা দিয়েছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল কমিটির মতে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। দেশটির বিচার বিভাগে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে তাঁর নিয়োগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায়ও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও কাজ করেন।
২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন পিল্লাই। এ ছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন তিনি।
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ওই কমিশনের প্রতিবেদনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়। ইসরায়েল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা বর্তমানে নানা চাপের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিল্লাইকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইতি/
