, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 80%

মহেশখালী চ্যানেল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন:

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীর পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সমুদ্র চ্যানেল থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের দায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরকারের নির্ধারিত অর্থনৈতিক কোডে এ অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি এনফোর্সমেন্ট মামলার শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সোনিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত আদেশ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

এ ঘটনায় টোকিও-ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক মো. আকবর হোসেন পাটোয়ারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক কোজিমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দুই মাস ধরে মহেশখালী চ্যানেলের হামিদিয়াদিয়া ও ঠাকুরতলা এলাকা থেকে প্রায় দুই লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে ভারী ড্রেজারের মাধ্যমে সমুদ্রতল থেকে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। উত্তোলিত বালু মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া সমুদ্র চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে।

এর আগে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক প্রকল্পের জন্য মহেশখালী চ্যানেল থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং কম মূল্যে বালু সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত রানওয়ে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এদিকে বালু উত্তোলন ও মূল্য নির্ধারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিটও দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি প্রকল্পে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া প্রচলিত আইন ও নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এ পদক্ষেপকে পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

ইতি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত