, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 89%

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, আরও ৭টি ঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ অঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় আরও সাতটি কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। ফলে নগর ও গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে লোডশেডিং।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ৬৮ দশমিক ৭৯ মেগাওয়াট এবং অফ-পিক সময়ে ৯৫৮ দশমিক ৮৭ মেগাওয়াট। পিডিবির হিসাবে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহে ঘাটতি নেই এবং লোডশেডিং শূন্য দেখানো হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাস্তবে বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাউজান-১ ও রাউজান-২, কাপ্তাই সোলার, টেকনাফ সোলার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার। পাশাপাশি কয়েকটি কেন্দ্র জ্বালানি সংকটে সীমিত সক্ষমতায় চলছে।

গ্যাস সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে সার উৎপাদনেও। প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানাতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ও আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছে।

এদিকে লোডশেডিংয়ের প্রভাবে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের কিছু এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক করা কঠিন। এতে চট্টগ্রামের শিল্প উৎপাদন ও জনজীবনে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত